cover

cover

লালন বাণী

লালন বাণী


আমি একদিনও না দেখিলাম তারে

বাড়ির কাছে আরশিনগর পড়শি বসত করে।

গেরাম বেড়ে অগাধ পানি,

নাই কিনারা, নাই তরণী

পারে।

এই গানের কথা আর সুরের সঙ্গে সবাই পরিচিত। কে লিখেছেন এই আশ্চর্য সুন্দর গান তা আমাদের অজানা নয়। তিনি হলেন বাউল সম্রাট লালন শাহ।

লালন শাহ তাঁর গানের মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বেড়াতেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বাউল জীবন। তিনি নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ মনে করতেন, জাত গোত্র তাঁর কাছে মোটেই বড় ছিল না। চন্ডীদাসের মতো তিনিও বিশ্বাস করতেন,

সবার উপরে মানুষ সত্য

তাহার উপরে নাই।

একবার তাঁর পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি গানের কথায় সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন,

সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে

লালন বলে জাতির কী রূপ দেখলাম না দুই নজরে!!

মানুষের দেহ, স্রষ্টা, সৃষ্টি এইসব নিয়ে বেশি গান লিখেছেন লালন।

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

ক্যামনে আসে যায়

ধরতে পারলে মন-বেড়ি

দিতাম পাখির পায়।

এরকম কত শত গান যে এই সাধক লিখেছেন তার সঠিক হিসেব পাওয়া কঠিন। আমরা তাঁর সর্বাধিক ৮৫১টি গানের সন্ধান লাভ করেছি। ৮৫১টি গানের সংকলনই ‘লালন সমগ্র’। লালনের প্রায় সমস্ত গানই আধ্যাত্মিক। যার ভেতরকার মর্মবাণী খুব গভীর। তিনি মানুষের একাল-সেকাল, জন্ম-মৃত্যু নিয়ে আশ্চর্য সব গান লিখেছেন। অসম্ভব জনপ্রিয় তাঁর গান। বাংলার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে তাঁর গান।

বাংলার মাটি ও মানুষের একান্ত আপনজন লালন শাহ। তিনে হলেন বাউল সঙ্গীতের গুরু।

Powered by Blogger.