আজ ব্রজপুরে কোন পথে যাই
(৪৫)
আজ ব্রজপুরে
কোন পথে যাই,
ওরে বল রে তাই।
আমার সাথের
সাথী আর কেহই নাই
ওরে কেহই নাই
ৼ
কোথা রাধে কোথা
কৃষ্ণ ধন
কোথা রে তার
সব সখিগণ
আর কতদিনে চলিলে
সে
চরণ পায় ৼ
যার লেগে মুড়ি
এহি মাথা
তারে পেলে যায়
মনের ব্যথা
কি সাধনে সে
চরণে
পাইব ঠাঁই ৼ
তোরা যত স্বরূপ
গণেতে
বর দে গো কৃষ্ণ
চরণ পাই যাতে
অধীন লালন বলে
কৃষ্ণ নিলের
অস্ত নাই ৼ
প্রথম স্তবক: পথ জিজ্ঞাসা ও
একাকীত্ব
"আজ ব্রজপুরে কোন পথে যাই, ওরে বল রে তাই। আমার সাথের সাথী আর কেহই নাই ওরে কেহই নাই ৼ"
- আজ ব্রজপুরে কোন পথে যাই: আজ আমি ব্রজপুরে (বৃন্দাবন, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর লীলা
করেছেন, এখানে এটি পরমধাম বা
ঐশ্বরিক উপলব্ধির স্থান) কোন পথে যাব? এটি
আধ্যাত্মিক পথের দিকনির্দেশনার জন্য একটি আকুল জিজ্ঞাসা।
- ওরে বল রে তাই: ওরে
(হে পথপ্রদর্শক), আমাকে সেই পথটি বলো!
- আমার সাথের সাথী আর কেহই নাই: আমার সাথে চলার মতো আর কোনো সঙ্গী নেই। এটি ভক্তের একাকীত্ব এবং সাধন
পথে নিঃসঙ্গতার প্রকাশ।
- ওরে কেহই নাই: ওরে, সত্যিই আমার সাথে কেউ নেই। (আকুলতার পুনরাবৃত্তি)।
দ্বিতীয় স্তবক: প্রিয়জনের
সন্ধান
"কোথা রাধে কোথা কৃষ্ণ ধন কোথা রে
তার সব সখিগণ আর কতদিনে চলিলে সে চরণ পায় ৼ"
- কোথা রাধে কোথা কৃষ্ণ ধন: রাধা (কৃষ্ণের প্রিয়তমা, ভক্তিসাধনার
প্রতীক) কোথায়? এবং কৃষ্ণ ধন (কৃষ্ণরূপী
পরম ধন) কোথায়?
- কোথা রে তার সব সখিগণ: তাঁর
(কৃষ্ণের) সব সখীগণ (গোপীরা, যারা
ভক্তিমার্গে সেবিকা বা সহচরী) কোথায়?
- আর কতদিনে চলিলে সে: আর
কত দিন বা কতটুকু পথ চললে (সাধনা করলে)।
- চরণ পায়: সেই
(কৃষ্ণ ও রাধার) চরণ (পবিত্র আশ্রয় বা সান্নিধ্য) পাওয়া যাবে? (এটি সাধকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং ব্যাকুলতা)।
তৃতীয় স্তবক: দুঃখ নিবারণ ও
সাধনার জিজ্ঞাসা
"যার লেগে মুড়ি এহি মাথা তারে
পেলে যায় মনের ব্যথা কি সাধনে সে চরণে পাইব ঠাঁই ৼ"
- যার লেগে মুড়ি এহি মাথা: যার জন্য আমার এই মাথা (জীবন বা অহংকার) নত করে আছি বা কষ্ট স্বীকার
করছি।
- তারে পেলে যায় মনের ব্যথা: তাকে (কৃষ্ণকে) পেলে আমার মনের সমস্ত ব্যথা (বিরহ যন্ত্রণা, জাগতিক দুঃখ) দূর হয়ে যাবে।
- কি সাধনে সে চরণে: কোন
সাধন (আধ্যাত্মিক অনুশীলন) দ্বারা সেই চরণে (কৃষ্ণের পবিত্র আশ্রয় বা
সান্নিধ্যে)।
- পাইব ঠাঁই: আমি
স্থান বা আশ্রয় পাব? (এটি সঠিক সাধন পদ্ধতি জানার
জন্য জিজ্ঞাসা)।
চতুর্থ স্তবক: আশীর্বাদ
প্রার্থনা ও কৃষ্ণলীলার অনন্ততা
"তোরা যত স্বরূপ গণেতে বর দে
গো কৃষ্ণ চরণ পাই যাতে অধীন
লালন বলে কৃষ্ণ নিলের অস্ত নাই ৼ"
- তোরা যত স্বরূপ গণেতে: হে
তোমরা যারা স্বরূপে (প্রকৃতরূপে) জ্ঞানী বা সাধনার সিদ্ধ অবস্থায় আছো।
- বর দে গো কৃষ্ণ চরণ পাই যাতে: তোমরা আমাকে বর (আশীর্বাদ) দাও, যাতে
আমি কৃষ্ণের চরণ (আশ্রয়) লাভ করতে পারি।
- অধীন লালন বলে কৃষ্ণ নিলের: এই অধীন (বিনয়ী) লালন ফকির বলেন, কৃষ্ণ
নীলের (কৃষ্ণের নীল রূপ বা তাঁর
সত্তার)
- অস্ত নাই: কোনো
অস্ত (শেষ বা বিনাশ) নেই। অর্থাৎ, কৃষ্ণ
চিরন্তন, অবিনশ্বর। এটি কৃষ্ণের
অনন্ত লীলা ও পরম সত্তার মহিমা বর্ণনা করে।
মূল বার্তা:
এই
গানটি একজন ভক্তের গভীর বিরহ এবং প্রেমাস্পদ
শ্রীকৃষ্ণকে (পরমাত্মা) পাওয়ার জন্য ব্যাকুলতাকে প্রকাশ করে। ভক্ত তাঁর সঙ্গীহীন পথে কৃষ্ণ, রাধা ও
সখীদের সান্নিধ্যের জন্য আকুল। তিনি তাঁর মনের ব্যথা নিবারণ এবং কৃষ্ণচরণে স্থান
পাওয়ার জন্য সঠিক সাধনা পদ্ধতি জানতে চেয়েছেন, এবং
শেষে সিদ্ধ সাধকদের আশীর্বাদ চেয়েছেন। গানটি কৃষ্ণের অনন্ত সত্তা এবং তাঁর লীলার
মহিমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।